বুকে ব্যথা গোলাপের
কঠোরভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের
বুকে ব্যথ গোলাপের
শ্যামল চক্রবর্ত্তী
সবুজের গল্প
মোহন :আরে শুনতে পাচ্ছিস? তোর ফোনটা ডিস্টার্ব করছে নাকি ,আচ্ছা শুনতে পাচ্ছি ।
আমি মোহন বলছি। আরে তোকে যে মেয়েটার কথা বলেছিলাম না ,পাশের বাড়ির ছাদে। প্রতিদিন লকডাউনে বাইরে যেতে পারে না তো। ছাদে হাঁটাচলা করে। আমিওতো ছাদে বসে থাকি। আমার দিকে মাঝেই ফ্যালফ্যাল করে তাকাই।
শস: আরে ভালোই তো। তোর তো অনেক গুণ আছে না ,তুই যেমন ব্রিলিয়ান্ট। জ্যোতিষ চর্চা করিস। তার সঙ্গে তোকে দেখতে ভালো।
পুরুষের ইনকাম দেখে মেয়েরা। তার সঙ্গে ভালো চাকরি করিস। এত বড় বাড়ি। তোকে মনে মনে ও চায়।
মোহন :মেয়ে কিরে ওটা একটা বৌদি। ছেলে আছে।
আমার বন্ধুরা বলি না ঝারি করা, যেখানেই থাক আমাকে ঝাড়ি করে। আমিও ঝাড়ি করি।
কেন জানিনা খুব ভালো লাগে। কি করব বল তো।
শস: অফার দেয়। দেখ না কি করে।
মোহন: তোর মাথা খারাপ। আমার পাড়ায় রেপুটেশন আছে। ব্যাপারটা কেমন ঘটবে বলতো ।
আমিও বিবাহিত।
ওকে দেখলে আমার মনটা কেমন কেমন করে।
এটা কি প্রেমের লক্ষণ।
একদিন আমি ওকে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলাম।
শস্: কি স্বপ্ন?
মোহন: আমার বলতে লজ্জা লাগছে। অবশ্য বন্ধুকে বলতে লজ্জা কিসের। আমি স্বপ্ন দেখছি আমি ছাদে বসে আছি। ও ঝারি করছে, আমিও ঝাড়ি করছি। মেয়েটি বলল (বৌদি) দাদা আপনার অফিস কবে খুলবে?
আমার অফিস লকডাউনে প্রায় নেই বললেই চলে।
আমি ল্যাপটপে অনলাইনে কাজ করছি।
যা পরিস্থিতি চাকরি থাকবে কিনা জানিনা।
মাঝে মাঝে কাজ করে পাঠাচ্ছি। আরো কাছে এলো ছাদের। ক্লাস ফাইভের একটি অঙ্ক মোবাইলে আমায় দেখাল। অঙ্কটা একটু বলে দেবে? আমার হাত দুটো চেপে ধরল। ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার প্যান্টটা ভিজে গেছে।
শস: মেয়েটা মনে হয় হাজবেন্ডের কাছ থেকে সুখ পায়না ।
মোহন: তুই বলছিস ওর স্বামী স্ত্রীর ভালো করে মিলন মজা পায় না।
শস: হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক বলেছিস। তোকেও খুব ভীষণ করে চায়। মেয়েদের বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না।
মোহন: ঠিক বলেছিস। মাঠে অনুষ্ঠানে, রাস্তায় যেখানেই থাক কথা বলে না ঠিকই কিন্তু চেয়ে থাকে আমার দিকে।
আমার মনটাও খুব উতলা হয়। বিপরীত ধর্মী লিঙ্গের মধ্যে আকর্ষণ স্বাভাবিক ।কিন্তু সমাজ বলে একটা ব্যবস্থা আছে । আমার পক্ষে কি চূড়ান্ত কিছু করা সম্ভব।
বৌদিটা কি কিন্তু অপূর্ব দেখতে। ঠিকই বলেছিস হয়তো হাসবেন্ড ওয়াইফ এর মধ্যে সেক্সুয়াল মজা হয়তো পায়না। বৌদি তার নাম কি বলতো? 'গোলাপ'।
শস: আরে তুই মোবাইলে এতক্ষণ কথা বলছিস। প্রচুর উঠবে তো?
মোহন :ঠিক আছে। পরবর্তী পর্যায়ে কি ঘটে আমি তোকে জানাবো ঠিক আছে শুভরাত্রি।
মোহন: প্রতিদিন কি ঝির ঝিরে বৃষ্টি। আরে এত দিন লকডাউন এ সময় কাটছে না। ছাদে বিকেল বেলা একটু বসি তার উপায় নেই।
গোলাপ: ঠিকই বলেছ ।আমিও ছাদ একটু বেশিক্ষণ থাকবো তার উপায় নেই।
মোহন: ছাদে উঠে দেখি লাফান দড়ি খেললে ভালো। বাইরে বের হতে পারো না বলে। শরীরটা ঠিক রাখ। একটু মোটা হয়ে গেছিলে। এখন আবার স্লিপ হয়ে গেছে। হাসছো কেন।
গোলাপ: ঠিক আছে শরীর?
মোহন: তোমার বাড়িতে কেউ নেই? নাগো। শর্বরী গেছে বাপের বাড়ি। সন্ধ্যেবেলায় একবার বাড়িতে এসো না, আমার ছেলেকে অঙ্ক দেখিয়ে দিও। আজ সন্ধ্যেবেলা।
মোহন: ঠিক আছে সন্ধ্যেবেলা সময় পেলে যাব তোমার বর কোথায়? বাংলাদেশের গেছে।
শাশুড়ি?
গোলাপ: কেউ নেই।
মোহন: যদি তোমার প্রয়োজন হয় । অসুবিধা হলে আমাকে বলো।
মোহন: গোলাপ ,আমি এসে গেছি ।একটু দেরি হয়ে গেল।
গোলাপ: এ কত দেরি । এখনতো সাতটা বাজে।
এখনো ছেলে কয়েকটা অঙ্ক পারছে, একটু দেখিয়ে দাও। চা খাবে তো? দুধ চা? র চা?
মোহন: আরে দুধদুটো থাকতে দুধের চা খাবো ।
দুধের চা খাব।
আরে তুমি ছেলেকে । দুধের চা করতে বলছো।
ও কখনও করতে পারে?
গোলাপ: ওকে আমি শিখিয়েছি। যা মানা চা টা করতো।
মোহন :ও তোমার উদ্দেশ্যের আমি বুঝেছি।
তুমি আমার কোলের কাছে প্রায় উঠে পড়লে।
আরে তোমার দুধ দুটো আমার বুকের সামনে ঠেকিয়ে ফেলে। আমার কি অবস্থা হচ্ছে তুমি।
গোলাপ: আমার কি অবস্থা হয়েছে তুমি জানো?
আমি পাগল হয়ে যাই তোমার জন্য। ছাদে উঠলে দেখনা। তোমার দিকে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকি।
তুমি তো বোঝনা আমার মনের কথা ।আমার শরীরের চাহিদার কথা। তুমি কি খুব কৃপণ।
মোহন: সমাজ বলে একটা জিনিস আছে। আর আমার বউ আছে। তুমি বোঝনা। কৃপণ না হলেও কৃপণ হতে হয়। তোমাকে আমার খুব ভালো লাগে। তোমার এত সুন্দর ফিগার এত সুন্দর দেখছে, কার না ভালো লাগবে। ভগবান মেয়েদের এত সুন্দর করে পাঠিয়েছে। ছেলেদের ভালো না লেগে যাবে কোথায়।
সমাজের চাপে ছেলেরা অনেক কিছু করতে পারে না। কিছু করার নেই ।অনেক মেয়ে বলবে কৃপণ। বিপরীত দিকে নিজের বউ বলবে অসভ্য দুশ্চরিত্র। ছেলেদের এগোলেও জ্বালা পেছলেও জ্বালা।
তোমার দুধ দুটো ধরে নি। খোলো ব্লাউসটা। ও বাবা ও বাবা ব্রেসিয়ার পরে আছো। ওই জন্য এত টাইট।
বক্ষ সৌন্দর্য এইজন্য তোমার। দুধ দুটোতে ঝুলে গেছে।
গোলাপ :আমি কিন্তু আর থাকতে পারছি না। শরীরটা তুমি এলোমেলো করে দিলে। জানিনা সারা লাইফ আমার কিভাবে কাটবে।
মোহন: প্লিজ প্লিজ গোলাপ ,তুমি একটু বোঝো। তোমার হাজবেন্ড আছে। তোমার ছেলে আছে।
আমার বউ আছে আমার ছেলে আছে। জানি প্রত্যেকটা মেয়ে প্রত্যেকটা ছেলেকে ভালো লাগতেই পারে। পৃথিবীর সৃষ্টির পর্ব থেকেই বিপরীতধর্মী লিঙ্গ পরস্পর পরস্পরকে আকর্ষণ করে। প্রেম এমন একটা জিনিস। সেক্স ছাড়া কিছুই হয় না।
দুটো সংসার ভেঙ্গে যাবে সেটা কি তুমি চাও।
তোমার দুধ দুটো একটু ধরে, আরেকটু দুধ দুটো চুষে নি। আর বেশি কিছু চেওনা। বুঝতে পারছি।
তুমি আমার থেকে আরো কিছু চাইছো। আমি অনেক কৃপন। আমার কিছু করার নেই।
আমি বাড়ি যাই।
গোলাপ: আমি তোমার থেকে অনেক কিছুই চাই অনেক কিছু চেয়েছি। জানি তুমি কৃপণ। আমি তোমাকে থেকে অর্থ চাই না। শেষ জীবনে আমাকে একটু দেখো।
মোহনা: গোলাপ ফুলের পড়ালে মোর গলে।
গন্ধ তারি ডালিয়া দিলে মোর হৃদয় জুড়ে।
ভুলবো কেমনে জনমে, কৃপণ সাজালে মরে।
এ জন্মেও ভুলিবো না পুনর্জনম হবে দেখা গোলাপে।
তখন বাসিবে ভালো মোহন গোলাপের।
সৃষ্টি করেছে ভগবান একি অনাসৃষ্টি।
নারী-পুরুষের একি আকর্ষণ,তৈরি অনাসৃষ্টি।
বুকে ব্যথা নিয়ে হবে মৃত্যু, অব্যক্ত কত নর-নারী।
