রূপান্তরিত
#শপিজেন_সাপ্তাহিক
#অণুগল্প
#বিভাগ_গল্প
#কলমে_আহির_তনিমা_রায়
****রূপান্তরিত****
বিয়েটা বিদেশেই সেরেছিল অঞ্জন। দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রেম, তারপর বিয়ে। এই ক'দিনে অবশ্য তার বউয়ের সাথে ভিডিওকলেই বেশ আলাপ পরিচয় হয়ে গেছে তার মা বাবা আর বোনের।
এত বছর পর ছেলে দেশে ফিরেছে, তার উপর আবার বউ নিয়ে! ধুমধাম করে বরণ করা হল নতুন বউকে। পাড়ার লোকও দেখে বলল,
"আহা... বৌমা বটে পেয়েছে মুখার্জী গিন্নি! যেমন রূপ, তেমন গুণ। শুনেছি নাকি বিদেশে বিরাট বড় ডাক্তার বউটা!"
"আরে হবে নাই বা কেন? আমাদের অঞ্জন কি কম যায় নাকি? এত বড় ইঞ্জনিয়ার... এত বড় চাকরি..."
মিষ্টি মুখ করে, খুশী মনে, প্রতিবেশীরা নতুন বউকে আশীর্বাদ করে যে যার বাড়ি চলে গেল।
শুধু আসতে পারেননি অঞ্জনের ঠাকুমা। অশিতীপর বৃদ্ধা নিজের ঘরের বিছানায় শুয়ে শুয়েই অপেক্ষা করছেন, কখন নাতবউয়ের মুখ দেখবেন!
লাল রঙের বেনারসী, ভারী গয়নায় সুসজ্জিত বউকে নিয়ে ঠাকুমার ঘরে ঢুকেই তাকে জড়িয়ে ধরল অঞ্জন।
"দেখো তো বুড়ি, তোমার নাতবউ কেমন হয়েছে? তোমার মত সুন্দরী হয়নি অবশ্য।"
নাতবউ এসে ঠাকুমাকে প্রণাম করতে, বুড়ি তার মুখে চুমু খেয়ে বলল,
"ঠিক যেন রাধা কৃষ্ণের জুটি। কী নাম রে তোর মেয়ে?"
" মানবী ... ঠাকুমা।"
লাজুক লাজুক মুখে বলল নতুন বউ।
"বাহ্... বেশ মিষ্টি নাম। সুখে থাকো বাছা।"
"ঠাম্মা, তোমায় একটা সিক্রেট বলে রাখি। আর কেউ জানে না। জানলেও বুঝবে না। তোমার মত মর্ডান তো কেউ নেই এবাড়িতে।"
"কি রে দাদুন? কি সিক্রেট?" বুড়ি ভ্রু তুলে বলল।
"তোমার নাতবউয়ের আগের নাম ছিল কিন্তু 'মানবেন্দ্র'।"
সেই আমলে ইংলিশ অনার্স নিয়ে পাশ করা বুড়ি, খানিকক্ষণ ধরে একবার নাতির দিকে আরেকবার নাতবউয়ের মুখের দিকে তাকাল। তারপর ফোকলা মুখে চওড়া হাসি এনে বলল,
"ভালোবাসাটাই আসল দাদুন, বাকি সব কিছু অপশনাল।"
***সমাপ্ত***
