বইয়ের বিবরণে ফিরে যান প্রতিবেদন পর্যালোচনা

গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে (পর্ব-২৮)

অম্বরীষ এবং নিকোলাসের মতে, টিম তৈরী করার জন্য খুব দরকার - টিমের মেম্বারদের প্রত্যেকের অপরকে আপন ক’রে নেওয়া – দেহের ছোঁয়ায় আর মনের আবেগে। টিম স্পিরিট বাড়ানোর প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে:-  টিমের মেম্বারদের পরস্পরকে কাছে টেনে নিয়ে আদর করা, স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে একে অপরের গা টিপে দেওয়া। দিনের বেলায়, মেম্বাররা সবাই কাজে ব্যস্ত থাকে; তাই তারা অন্য মেম্বারদের কাছে আসার সুযোগ পায় না; কেবল গত রাত্রির রুম পার্টনারই থাকে সঙ্গে, পনেরো কিলোমিটার দূরে জঙ্গলে গিয়ে নিজেদের মধ্যাহ্ন-ভোজনের ব্যবস্থা করার জন্যে; তারই ফাঁকে ফাঁকে পাওয়া যায় বিপরীত লিঙ্গের পার্টনারের দেহের সান্নিধ্য। সন্ধ্যায়, ডিনারের আগে ক্ষিদে বাড়ানোর জন্যে, শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় অ্যালকোহলিক পানীয় আর ফিঙ্গার ফুড স্ন্যাক্স, শিক্ষার্থীরা সোফায় ব’সে, শুয়ে আরাম ক’রতে পারে আর ঘনিষ্ঠ হ’তে পারে তাদের সহপাঠী সহকর্মীদের সঙ্গে।
তৃতীয় সন্ধ্যায় একজন সহপাঠিনী জেসিন্টা ইমরানকে আমন্ত্রণ জানালো ওকে আদর করার জন্যে। জেসিন্টা একটা সেক্সি হল্টার টপ পরেছিল যা কেবল তার বুকের বোঁটাগুলোকে ঢেকে রেখেছিল; ওর স্কার্টের বেল্টটি ছিল তার পেটের ভুঁড়ির নীচে; ইমরানের মনে হচ্ছিল জেসিন্টার সুডৌল স্তনদুটি আপেলের মত শক্ত; ইমরান স্পর্শ ক’রতেই অনুভব ক’রলো পাখীর মতো কোমল আর প্রাণবন্ত ওর আপেলগুলো। ইমরান সারা রাত জেসিন্টাকে আদর ক’রতে আর তার সাথে অনর্গল কথা ব’লতে পারতো; কিন্তু সারা দিন প্রায় উপোস করার পর, এখন ডিনার খাওয়া খুবই দরকার; তারপর আছে আর একজন মহিলার সাথে রাত কাটানোর পালা।
রাত ৮টার মধ্যে ডিনার খাওয়া শেষ হ’লো; এরপর ইমরান গেল এই রাতের জন্য বরাদ্দ বেডরুমে। ও ওর ল্যাপটপে অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে নোট লিখতে এক ঘন্টা কাজ ক’রলো; ওকে ওয়ার্কশপের শেষে (১৪ X ৫) বা সত্তর পৃষ্ঠা লিখতে হবে। এই রাতের জন্য তার রুমমেট ম্যাবেল ইতিমধ্যে বিছানায় শুতে যাবার জন্যে প্রস্তুত; ও ইমরানের কাছে এসে ব’ললো, ‘তুমি গ্রুপের সবাইকে নিয়ে লিখতে এত কষ্ট ক’রছো কেন? আমি আমার চোদ্দজন সহপাঠীর প্রত্যেকের জন্যে একই রকমের ফর্ম তৈরী ক’রেছি; যেখানে কারুর আলাদা কিছু দেখি সেটা এর সঙ্গে জুড়ে দিই; যেমন আভার কেসটা ছিল অসাধারণ; ওর জন্যে বিশেষ ক’রে লিখতে হ’লো।‘
‘খুব ভালো পরামর্শ, ম্যাবেল, তোমার ফর্ম্যাটটা আমিও ব্যবহার ক’রবো।’ ইমরান উত্তরে ব’ললো, ‘তবে আমি প্রত্যেক জনের সম্পর্কে আমার প্রথম ধারণাগুলোর খসড়া ক’রে ফেলেছি; প্রতিদিন আমি যা আবিষ্কার ক’রবো তা এর সঙ্গে যোগ ক’রবো। মনে হ’চ্ছে তুমি বিছানায় যাবার জন্যে প্রস্তুত, তুমি কোন দিকেরটা পছন্দ করো – বাম দিকেরটা না ডান দিকেরটা?’
‘তুমি কি এখনও পর্যন্ত তোমার সঙ্গীদের সাথে এক বিছানায় শোও নি?’ ম্যাবেল জিজ্ঞেস ক’রলো।
‘না, গত দুই রাতে আমার পার্টনাররা আলাদা বিছানায় ঘুমিয়েছিল; আমি আমার বিছানায় একা শুয়েছিলাম; এখন পর্যন্ত আমি আমার গার্ল-ফ্রেণ্ড ঝিকি ছাড়া অন্য কারো সাথে এক বিছানায় শুইনি। আমি এটাকে পাপ মনে করি।’
‘সে সব নিয়ম ভুলে যাও; ওগুলো কুসংস্কার; মঙ্গল গ্রহে নিয়ে যেও না; কোনো কাজই পাপ নয় যতক্ষণ না তা কাউকে আঘাত না করে; এখানে নিয়ম হ’লো তোমার সঙ্গীকে বিছানায় ঘনিষ্ঠভাবে দেখতে হবে যাতে তুমি তার সম্পর্কে লিখতে পারো। আমি আমার কিছু জিনিস বাম দিকের বিছানায় রেখেছি; তাই আমরা দুজনেই ডান দিকের বিছানায় ঘুমোবো। যাও, তোমার নাইটওয়্যার প’রে নাও আর এখানে আমার পাশে এসে শোও। তোমার সাথে খালি গায়ে দেখা করার জন্য আমি উদগ্রীব হ’য়ে আছি,-'
ডিনারের আগে জেসিন্টাকে জড়িয়ে ধরে আদর করার পর, ইমরান একজন মহিলাকে আরও কাছে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল; কিন্তু ম্যাবেলের সমতল বুক দেখে ইমরান নিরুৎসাহ বোধ ক’রলো; ম্যাবেল হয়তো দিনের বেলায় প্যাডেড ব্রা প’রে থাকে তাই ওকে ম্যান-চেস্টার ব’লে মনে হয়নি; কিন্তু তার নাইটশার্টের পিছনে লুকোনোর কিছু ছিল না।
ম্যাবেল জোর ক’রলো ব’লে ইমরান তার নিজের শার্ট খুলে ফেললো;
মনে হ’লো, ম্যাবেল চায় ইমরান আদর ক’রে ম্যাবেলের শার্টটাও খুলে দেয়।
অগত্যা ইমরান তাই ক’রলো আর ব’ললো, - 'তোমার বুকদুটো দেখতে মশার কামড়ের মতো।'
ম্যাবেল ছিল বিবাহিত; তার পর পর তিনটি মেয়ে বাচ্চা হ’য়েছিল; সম্ভবতঃ এই কারণেই তার বুক সমতল হ’য়ে গেছে। ম্যাবেল যখন অ্যান্টার্কটিকার ম্যাক-টাউনে কর্মশালায় এসেছে, তখন এই দিনগুলিতে ওর স্বামী ওর বাচ্চাদের দেখাশোনা ক’রছিল।
ম্যাবেলের মশার কামড়ের ফোলাতে ইমরান কয়েকবার আঙুল দিয়ে দেখলো; ম্যাবেল ইমরানের কাঁধে হাত রেখে তার চোখের দিকে তাকালো। ইমরানও ওর চোখের দিকে তাকালো; আর তারপর পলক ফেলতে পারলো না; ওর চোখে এত ভালবাসা, ইমরান যেন এক কাছে ডাকার আমন্ত্রণ অনুভব ক’রলো। ইমরান মশার কামড়ের ফোলার দিকে তাকাল; ফোলাটা এত ছোট যে হাতের তালু দিয়ে ধরা যায় না। ইমরান তার আঙ্গুল দিয়ে বা তার হাতের কাপে ধরে রাখতে পারে এমন কিছুই ছিল না ওতে; ইমরান ম্যাবেলের মুখের দিকে তাকালো; ওর তিনটি মেয়ে আছে; তাদের মধ্যে একজনের  বয়স মাত্র তিন মাস; ইমরান তার ঠোঁটটা সরু চোঙার মতো ক’রে মশার কামড়ের উপর রাখলো; জিভ দিয়ে মশার কামড়ের ডগাটা অনুভব ক’রলো, তারপর চুষলো; মিষ্টি ক্ষীর লাগলো ইমরানের জিভে, ওর তালুতে; স্বর্গ থেকে যেন অমৃতের ধারা।
ইমরান ব’ললো, ‘তোমার মনটা, তোমার ভেতরটা অনেক মিষ্টি, ম্যাবেল, আমি কখনো ভাবিনি তোমার ছোট্ট মশার কামড়ে এত ভালোবাসা।‘
ইমরান ম্যাবেলের স্কার্ট তুললো, ও কোন প্যান্টি পরে ছিল না; ইমরান জোর করে ঢুকলো ম্যাবেলের মধ্যে; ম্যাবেলও আনন্দে ফেটে পড়লো।
‘এবারে নিশ্চয়ই আমার ছেলে হ’তো। তুমি আমার ভেতরের গভীরে ছুঁয়েছো।’ ম্যাবেল ব’ললো, ‘কিন্তু আমি নিজেকে নির্বীজিত করেছি এবং তুমিও নিশ্চয়ই নির্বীজিত। আমার স্বামী সঙ্গে পরামর্শ ক’রবো – হিমঘর থেকে তোমার স্পার্ম আর আমার ডিম দিয়ে আই.ভি.আর-এর চেষ্টা করা যায় কিনা।
ইমরান ও ম্যাবেল পরস্পরকে জড়িয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো। ইমরান বিছানার একপাশে মুখ ঘুরিয়ে শুলো; ইমরানের আগেই ঘুমিয়ে পড়লো ম্যাবেল।
 
পরের দিন সকালে, ইমরান যখন শাওয়ার থেকে বেরিয়ে আসে তখন সে দেখতে পেলো ম্যাবেল অফিসের পোশাক পরে, নাস্তা ক’রতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। ইমরান তার ট্রাউজার পরার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল; ম্যাবেল তার সামনে এসে হাজির হ’লো, 'তুমি কিছু পরার আগে আমরা কি একটু কুইকি ক’রতে পারি?'
অবাক হ’য়ে ইমরান বললেন, ‘তার মানে কী? তুমি কি চাও আমি তোমার জামাকাপড় খুলে দেবো?'
'না', ম্যাবেল উত্তর দিল, 'তোমাকে শুধু আমার স্কার্টটা তুলতে হবে; আমি কোনো প্যান্টি পরি না।'
ইমরান এগিয়ে এসে ওর স্কার্টটা তুললো, - ‘তুমি ব্রা পরে ওয়ার্কশপে যাও; অথচ প্যান্টি পরো না?’
'না, আমি প্যান্টি কেনার খরচ ক’রতে চাই না; ওতে অনেক খরচ পড়ে; আমি সস্তায় কাজ চালাই; আমি আমার স্কার্ট না তুললে কেউ বুঝতে পারে না। আমার অনেক ছেঁড়া টি-শার্ট আছে, আমি কখনই নতুন জামাকাপড় কিনি না। এভাবে আমি আমার রোজগারের চেয়ে কম খরচে চালাতে পারি; আমার হোম লোন তাড়াতাড়ি শোধ ক’রতে পারবো।
‘এটা ওয়ার্কশপে ব’ললে খুব মজা হবে; সব পুরুষেরা, এমনকি মহিলারাও তোমার পেছনে লাগবে; হাসি-ঠাট্টা ক’রবে, তারা তোমাকে তোমার স্কার্ট তুলতে বাধ্য করাবে এবং তারপর তোমাকে মাঠে প্যারেড করাবে।'
'আমার মা তার জীবনে কখনও কোনও প্যান্টি পরেনি।' ম্যাবেল জবাব দিল, 'আমি এমন কিছুতে খরচ করতে চাই না যা না ক’রলেও চলে।
'এখনকার দিনে লোকেরা ধ’রে নেয় যে প্রত্যেককে অবশ্যই অন্তর্বাস পরতে হবে। আমাদের যেমন বাতাসে শ্বাস নিতে হয়, তৃষ্ণা মেটাতে জল পান ক’রতে হয়, তেমনই পোশাকের নীচে আন্ডিজ পরতে হবে। আমাদের এই দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে আন্ডিজ উৎপাদনকারী শিল্পগুলো বেশী দামে আন্ডিজ আর ব্রা বিক্রি ক’রে আমাদের শোষণ করে; আমি যদি পারতাম আমি আমার নিজের সব জামাকাপড় সেলাই ক’রতাম।'
ইমরান তার পিঠে হাত দিয়ে আদর করে, তারপর চট ক’রে কুইকি সেরে নেয়; তারপর নিজের একটি আণ্ডারওয়ার ম্যাবেলকে দিয়ে বলে - 'আমি চাই, তুমি এটা পরো। বলতো কি হবে যদি কেউ তোমাকে তার কাঁধে তুলে নেয়, যেমনটা আমি সেদিন মিসেস মাথুরকে নিয়েছিলাম?'
ইমরানের আণ্ডারওয়ারটা পরলো ম্যাবেল; একেবারে ঠিক ঠিক ফিট. ও ইমরানকে ধন্যবাদ জানালো; কাল রাতে ইমরানের কাছ থেকে যা পেয়েছে ম্যাবেল তার জন্য কোন টাকা দিয়ে ধার শোধ ক’রতে চায়নি; কারণ, ইমরানকে কিছু বাজার থেকে কিনতে হয়নি; সেগুলো ইমরানের নিজস্ব সৃষ্টি। একই ভাবে ম্যাবেল তার বুকের ক্ষীর দিয়েছে ইমরানকে; তখন ওর মেয়েরা কাছে ছিল না; তাই তাদের দেবার উপায় ছিল না। কিন্তু এই আণ্ডারওয়ারটা হয় ফেরৎ দিতে হবে, নয়তো দাম দিয়ে কিনতে হবে।

পর্যালোচনা


আপনার রেটিং

blank-star-rating

বামদিকের মেনু