বইয়ের বিবরণে ফিরে যান প্রতিবেদন পর্যালোচনা

খোঁজ (পর্ব-২৪)

এই পাড়ার রাস্তায় ঘন্টায় ষাট কিলোমিটারের বেশী স্পীডে গাড়ী চালানোর নিয়ম নেই; একদিন দেখা গেল – একটা গাড়ী ঘন্টায় নব্বই কিলোমিটার স্পীডে ছুটছে; পুলিশের স্পীড ক্যামেরায় ধরা পড়লো এ গাড়ীর গতিবেগ; পুলিশ এসে গ্রেপ্তার ক’রলো গাড়ীর ড্রাইভার নর্ম্যানকে।

 

পুলিশ নর্ম্যানকে জিগ্যেস ক’রলো, ‘এত বেশী স্পীডে গাড়ী চালিয়ে তুমি কোথা থেকে আসছো আর কোথায় যাবে?’

উত্তরে নর্ম্যান ব’ললো, ‘আমি পালিয়ে আসছি আমার বাবার ডেরা অমুক গ্রাম থেকে; যাবো এই পাড়াতেই আমার মাসী এস্থার কাছে।‘

পুলিশ এস্থাকে চেনে; নর্ম্যানকে নিয়ে এলো এস্থার কাছে; এস্থা চিনতে পারলো ওর নিজের ভাইয়ের ছেলেকে; নর্ম্যানকে ব’ললো, ‘এখানে কাটিয়ে যা কিছুদিন; তারপরে ফিরে যাস্ বাবার ডেরায়।‘

নর্ম্যান ব’ললো, ‘তোমার কাছেই থাকতে দাও, মাসী; এখানেই খুঁজে নেবো কোনো কাজ; ফিরে যাবো না বাবার কাছে।‘

স্যামসন ব’ললো, ‘যতদিন অন্য কোনো কাজ না পাও, আমি তোমাকে শেখাবো গাড়ী সারানোর কাজ; গ্যারেজে আমার সঙ্গে প্রণতি কাজ করে; তোমারও ভালো লাগবে ওর সঙ্গে কাজ ক’রতে।‘

পরদিন থেকে নর্ম্যান গ্যারেজে কাজ ক’রতে শুরু ক’রলো; কিন্তু তেমন ইচ্ছে নেই ওর কাজ শেখার, বিশেষ ক’রে একটি মেয়ের কাছ থেকে। স্যামসন নর্ম্যানকে উৎসাহ দেওয়ার জন্যে প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা ক’রতো। যেমন একদিন স্যামসন ব’ললো – একটা গাড়ীর চারটে চাকা পুরো খুলে ফেলতে হবে, তারপরে আবার ঐ চারটে চাকাই গাড়ীতে লাগাতে হবে। দেখা যাক, কে জেতে?’

যদিও নর্ম্যান পারলো না প্রণতির সঙ্গে পাল্লা দিতে; কিন্তু শিখলো তাড়াতাড়ি কোনো কাজ সেরে ফেলতে। এর পরে একদিন স্যামসন নর্ম্যানকে নিয়ে গেল মিশেলের রেস্তোরাঁয়; সেখানে নর্ম্যানের আলাপ হ’লো কাইলি আর রাইডারের সঙ্গে; রেস্তোরাঁর বাইরেও ওদের সঙ্গে দেখা করা শুরু ক’রলো নর্ম্যান, যাতে কাইলি আর রাইডার বেশী সময় দিতে পারে ওকে। নর্ম্যান, কাইলি আর রাইডারের আড্ডা এখন নিয়মিত হ’য়ে উঠলো। নর্ম্যান এপাড়ায় আসার আগে, কাইলি আর রাইডার ঘনিষ্ঠ থাকতো সারাদিন, হয় মিশেলের রেস্তোরাঁয় কাজে মধ্যে নয়তো কি ক’রে ওরা নিজেদের ব্যবসায়, নিজেদের দুজনে জীবন গড়ে তুলবে, সে নিয়ে আলোচনায়। ওরা দুজনে মিলে রেস্তোরাঁ ভ্যানেরও ব্যবসায়ও শুরু ক’রেছিল - মিশেলের রেস্তোরাঁর সঙ্গে প্রতিযোগিতা ক’রতে; কিন্তু হঠাৎ রেস্তোরাঁ ভ্যানে আগুন লেগে যায়, আর ঠিকমতো ইনসিউরান্স না থাকায়  ব্যবসায় বন্ধ ক’রে দিতে হয়। রাইডার দাদুর কাছ থেকে কিছু ডলার ধার ক’রেছিল, সে ধার এখনও শোধ হয়নি। নর্ম্যান আসার পর কাইলি আর রাইডারের অন্তরঙ্গ আলোচনার সময় আর নেই। এর পরে এমন একটা দিন এলো, যখন নর্ম্যান, কাইলি আর রাইডারের আড্ডা থেকে বেরিয়ে আসতে হ’লো রাইডারকে, ওকে কিছু কাজ ক’রতে হবে দাদুর জন্যে আর মিশেলের জন্যে। নর্ম্যানের মনে হ’লো, এটাই ওর সুযোগ কাইলির সঙ্গে অন্তরঙ্গ হওয়ার, কাইলিকে জিগ্যেস করার – কাইলি ওকে কতটা ভালবাসে – রাইডারের চেয়ে বেশী না কম? আশাতীত সাফল্য হ’লো নর্ম্যানের; কাইলি নিঃসঙ্কোচে নিজেকে নিবেদন ক’রলো নর্ম্যানের কাছে, ভুলে গেলো যে ও এতদিন স্বপ্ন দেখে এসেছে রাইডারের সঙ্গে ঘর বাঁধবে ব’লে, ভুলে গেলো যে রাইডারের তুলনায় নর্ম্যান কোনো কাজের নয়। ওদিকে, শুধু রাইডার নয় অন্যান্য বন্ধু-বান্ধবদেরও নর্ম্যান জানালো যে কাইলি নর্ম্যানকেই বয়ফ্রেণ্ড হিসেবে ভালবাসে। 

***

নর্ম্যান, কাইলি আর রাইডারের সম্পর্কের সমস্যা তুচ্ছ হ’য়ে গেলো, যখন অ্যান্টনী এসে পৌঁছলো এই পাড়ায় কাইলির বাবা হওয়ার দাবী নিয়ে; এই দাবীর সঙ্গে রয়েছে কাইলির মা এমার বয়ফ্রেণ্ড বা পার্টনার হওয়ার দাবী। এমার সঙ্গে অ্যান্টনীর শেষ দেখা হ’য়েছিল ষোলো বছরের বেশী আগে তখন কাইলি সবে এসেছে এমার গর্ভে; অ্যান্টনীকে চলে যেতে হ’য়েছিল নিজেকে কর্ম্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে। ব্যারিষ্টার হিসেবে অনেক উপার্জন ক’রেছে অ্যান্টনী; এখন ওর বিনিয়োগ বা ইনভেস্টমেন্ট থেকে নিয়মিত রোজগার হয়; নতুন ক’রে কোনো কাজ ক’রতে হবে না রোজগার বাড়াবার জন্যে। এখন দরকার নিজের মেয়ে কাইলিকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করা, কাইলির আর এমার সঙ্গে ওর সম্পর্কের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। কাইলি আর অ্যান্টনীর মধ্যে মেয়ে আর বাবার সম্পর্ক গড়ে উঠলো সহজেই। এতদিন ধ’রে, বাবাকে কাছে না পাওয়ার আফশোষ মেটাতে চাইলো কাইলি, চাইলো বাবার কথামতো নিজের কেরিয়ার গড়ে তুলতে। কাইলির সঙ্গে নিজের ডিএনএ মেলে কিনা তার পরীক্ষা করালো অ্যান্টনী; নিঃসন্দেহে মিল দেখা গেলো দুজনের ডিএনএ-এর মধ্যে; কাইলি অ্যান্টনীকে নেমন্তন্ন ক’রলো ওদের বাড়ীতে – এমা আর আরির সঙ্গে ডিনার করার জন্যে; ভদ্রতার খাতিরে আরি দেখা দিল অ্যান্টনীকে অভ্যর্থনা জানাতে; কিন্তু এমা রাজী নয় অ্যান্টনীকে কোনো অভ্যর্থনা জানাতে, অ্যান্টনীকে ঘৃণা করে এমা। অ্যান্টনী চাইলো না ওদের বাড়ীতে ডিনারে অংশ নিতে; কাইলি আর আরিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বেরিয়ে গেলো বাড়ী থেকে। এমা বোঝালো কাইলিকে – কেন এমা ঘৃণা করে অ্যান্টনীকে, কাইলির জন্মের কারণ অ্যান্টনীর প্রেম নয়, কারণ অ্যান্টনীর বলাৎকার, এমার উপর নির্দয় অত্যাচার। 

পরদিন ফিরে এলো অ্যান্টনী; এমার কাছে ও জানালো অনুনয়; এমা কোনো কিছু শুনতে রাজী নয়। অ্যান্টনীও জোর ফলাতে চায়; কাইলিকে কাছে ডাকে, বলে, ‘চলো আমার সঙ্গে; মাকেও নিয়ে চলো।‘

এবার হঠাৎ ঘুরে দাঁড়ায় কাইলি; একটা থান ইঁট রাখা ছিল লেটার বক্সের ওপরে; দু হাত দিয়ে ধ’রে ইঁটটা ওঠালো কাইলি; সজোরে ছুঁড়লো ইঁটটা; ইঁটটা গিয়ে লাগলো অ্যান্টনীর মাথার নীচে – ঘাড়ের একটু ওপরে; অ্যান্টনী পড়লো মাটিতে। এবারে কাইলি হতভম্ব; অ্যান্টনীর দেহটা নিঃসাড়, নিঃশব্দ। কাইলি আর এমা দুজনেই চেষ্টা ক’রলো অ্যান্টনীকে বাঁচাতে; কিন্তু শুনতে পেলো না অ্যান্টনীর নাড়ীর শব্দ। কি ক’রবে এখন কাইলি আর এমা? হাসপাতালে খবর দিলে এখনই পুলিশ কেস হবে, অথচ অ্যান্টনী বাঁচবে কিনা জানা নেই। আর বেশী ভাবনা চিন্তা করার সময় নেই। এমা দৌড়ে গেলো ওর গাড়ীর দিকে; গাড়ীতে উঠে গাড়ীটা ড্রাইভ ক’রে নিয়ে এলো ঠিক যেখানে অ্যান্টনীর দেহটা পড়ে ছিল। এমা তুলে ধ’রলো পিছনের ডিকির ঢাকনাটা। এর পরে এমা গিয়ে ধ’রলো অ্যান্টনীর মাথার দিকটা, আর কাইলি ধ’রলো অ্যান্টনীর পায়ের দিকটা; দুজনে মিলে অ্যান্টনীর পুরো দেহটা ডিকির মধ্যে পুরে দিলো; একটু ধাক্কা দিয়ে পুরো দেহটা চেপে দিলো ভিতরে। এর পরে এমা গিয়ে বসলো ড্রাইভারের সীটে। কাইলি ব’ললো, ‘দাঁড়াও, আমিও যাবো।‘

এমা ব’ললো, ‘তুই থেকে যা কাইলি। কেউ জিগ্যেস ক’রলে ব’লবি আমি বেরিয়েছি শহরের দিকে; যদি কেউ অ্যান্টনীর কথা জিগ্যেস করে, ব’লবি ও কোথায় গেছে আমাদের ব’লে যায়নি।‘   

কাইলি ব’ললো, ‘সাবধানে যেও। ভগবান তোমাকে সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষা করুন।‘

সঙ্গে সঙ্গে ছাড়লো এমার গাড়ী। বাইরে অন্ধকার হ’য়ে আসছে। এমা বাড়িয়ে দিল গাড়ীর গতিবেগ।

এমা ভাবছে কোথায় গিয়ে অ্যান্টনীর দেহটা চুপিসাড়ে ফেলে দিতে পারবে; এই গ্রাম থেকে বেরিয়ে প্রথমে পড়বে ফ্রীওয়েতে,  ফ্রীওয়ে ধ’রে চলবে প্রায় একশো কিলোমিটার; তারপরে একটা জঙ্গলের কাছে গিয়ে দেহটা ফেলে দিতে পারবে। এখন মনে হচ্ছে কাইলিকে সঙ্গে নিলে ভলো হ’তো; অ্যান্টনীর দেহটা একা ও নামাতে পারবে তো গাড়ী থেকে?

পর্যালোচনা


আপনার রেটিং

blank-star-rating

বামদিকের মেনু