অধ্যায় 3
দৃশ্য_৬ষ্ঠ
দেখতে দেখতে কেটে গেছে বেশ কটা মাস । কলকাতা এখন শীতের চাদর সরিয়ে গরমের তাপপ্রবাহ সহ্য করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে । পরিবর্তন এসেছে ঋত্বিকের জীবনেও । বেশ কতকগুলো প্রজেক্টের রিলিজ একসাথে থাকায় কাজের প্রেসার শতগুণ বেড়ে গেছে ।শত ব্যস্ততার মধ্যেও মুখ আর মুখোশের এই খেলাটা বেশ লাগছিলো ঋত্বিকের । প্রথম প্রথম বেশ হাস্যরসের উদয় হতো , কিন্তু আজ তা হয় না । মুখোশের ক্ষমতার বলে মানুষের অব্যক্ত কথা শুনতে শুনতে, তাদের সুপ্ত চাহিদার কথা জানতে জানতে আজ সত্যিই ঋত্বিক ক্লান্ত । বেশ ক'দিন ধরেই ওর মনে একটা টানাপোড়েন চলছে , মানুষের কোন মুখটা ও বিশ্বাস করবে, মানুষটার কোন কথা দিয়ে মানুষটাকে বিচার করবে ---- তার মুখের কথা না তার মনের অব্যক্ত কথা ।
চারিপাশের মানুষ গুলোর মনের আসল কথা শোনার পর তাদের প্রতি যেটুকু শ্রদ্ধা ভালোবাসা ছিলো তাও উবে গেলো কিছুদিনের মধ্যেই । এইতো সেদিন অফিসে অভিজিৎদা যাকে ঋত্বিক যথেষ্ট শ্রদ্ধা করতো । এমনিতেই বয়সে বড় তার ওপর ঋত্বিকের এই অফিসে ঢোকার প্রথম দিন থেকেই ভালো বন্ধু ,সবসময় দাদার মতো পাশে থেকেছে । কিন্তু ওর অনসাইট যাওয়ার ব্যাপারটা বোধহয় অনেকেই মন থেকে মেনে নিতে পারেনি । যে অভিজিৎদাই সর্বদা মেন্টাল সাপোর্ট দিয়ে গেছে, অথচ ওর নাম লিস্টে আসার পর থেকে ,অভিজিৎদার অনেক চেঞ্জ লক্ষ্য করেছে । অবশ্যই মুখোশের দৌলতে । আর ঋত্বিকের এইচ.আর প্রজ্ঞা সেনগুপ্ত , সে তো এক ভয়ঙ্কর মহিলা । উফফ সেদিন নিজের কানে যা শুনেছিলো ঋত্ত্বিক , তারপর থেকে প্রজ্ঞাকে একটু এড়িয়েই চলে । কখন কিভাবে ফাঁসিয়ে দেবে বিশ্বাস নেই এদের । ওদিকে বাবাকেও বেশ কয়েকবার সাবধান করায় হিসাবের খাতা এখন নিজেই দেখাশোনা করে ।
মানুষের মনে এতো মলিনতা , এতো নোংরা ভরা , সকলেই শুধু নিজের স্বার্থের কথা টুকুই বোঝে । অফিসে ৮/৯ ঘন্টা এই মুখোশধারী লোকগুলোর সাথে কাটাতে কাটাতে হাঁপিয়ে উঠছিলো ঋত্বিক । মাঝে মাঝে মনে হত ভেঙে ফেলে দিতে এই মুখোশটাকে । আবার পরক্ষনেই ভাবতো এই অদ্ভুত ক্ষমতা সম্পন্ন মুখোশ যা হয়তো কত শত ঘটনার সাক্ষী , কত পরিবারের রক্তাক্ত ইতিহাস আছে , সেটা নষ্ট করার কোন অধিকার নেই তার ? এতদিন সবকিছুই চলছিল সাথীর অলক্ষ্যে কিন্তু প্রতি রাতে ঋত্বিকের বিধস্ত মনমরা চেহারাটা অনেক কিছু বলতে চাইতো , কিন্তু কোথাও যেন আটকাচ্ছিলো , সাথীর সেটা বুঝতে খুব অসুবিধা হয়নি । কোনো কিছুই সাথীর চোখ এড়াতো না । কিন্তু ঘটনার কার্যকারণ কিছুই বুঝে উঠতে পারতোনা সাথী । হয়তো ভাবতো অফিসের কাজের প্রেসার তার জন্য দায়ী। সত্যিই তো ঋত্বিকের অফিসে যে ডেজিগনেশন , তাতে ওর ওপর প্রজেক্ট, রিলিজ, আরও নানা রকম ইস্যুর মত হাজার সমস্যা সামলাতে হয়।
একদিন রাতে বাড়ি ফিরে সাথীকে বলেই ফেললো সব কথা । থার্টি ফার্স্ট নাইট থেকে পয়লা জানুয়ারি তারপর অফিসে এতোদিনের ঘটনা সব - সব জানায় সাথীকে । প্রথমে তো সাথী শুনে বিশ্বাসই করতে চাইছিলো না ।
----- " মনে আছে তোমার তাওয়াং মনাস্ট্রির সেই লামা ছেলেটাকে ? আমরা ঢোকার সাথে সাথে যে ছেলেটা ছুটে এসে আমাদের প্রতিটা জিনিস দেখাতে লাগলো আর তার সম্পর্কে দুচার কথা বলছিলো। দিনক্ষণ ঠিকঠাক কিছুই বলতে পারেনি তবুও মুখে মুখে প্রচলিত একটা ইতিবৃত্ত শোনাচ্ছিল । কি মনে আছে তোমার ?" ঋত্বিক সাথীর উদ্দেশ্যে বলে ।
----- "হুমম , বলেছিল তো অনেক কিছুই। লামাদের জীবন , ওদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র , বাদ্যযন্ত্র , পুঁথি , প্রার্থনা । কিন্তু এই মুখোশের ব্যাপারে কি বলেছিল একটু পরিষ্কার করে বলতো , আমার ঠিক মনে পড়ছে না । "
----- বিশেষ কিছু নয় । তবে এটুকুই বলেছিল তাওয়াং মনাস্ট্রি অ্যাবোট একটা বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন মুখোশ বানিয়ে দিয়েছিল সেখানকার রাজাকে । যার সাহায্যে রাজা তার পরিষদের সদস্যদের মনের কথা জানতে পারত কিন্তু মুখোশটা হঠাৎ করেই রাজসভা থেকে উধাও হয়ে যায় বা বলতে পারো একপ্রকার চুরি হয়ে যায় এবং এই ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই রাজা খুন হয় ।
------ "হ্যাঁ হ্যাঁ , রকমই কিছু বলেছিল । কিন্তু ওই ছেলেটার বলা মুখোশের কথা আর তোমার কিনে আনা মুখোশটা, তোমার কি মনে হয় দুটো এক ? তার মানে সেই মুখোশটাই এখন তোমার কাছে ?"
------ না হওয়ার কোন কারণ তো দেখছিনা । নয় নয় করে মাস কয়েক তো হলো, এটা আমার কাছে আছে এবং প্রতিটা মানুষ আমার সামনে মনে মনে যে কথাগুলো বলেই সেগুলোই আমি স্পষ্ট শুনতে পাই এবং অনেক সময় তার সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে ।
------ মাই গুডনেশ । মুখোশের কথা জানাজানি হলে, রাজার মতো যদি তোমারও কোনো বিপদ আসে ? আমি জাস্ট নিতে পারছিনা ঋত্বিক, কি যে অদ্ভুত শখ তোমার । উফফ , পৃথিবীতে কত সুন্দর জিনিস আছে , সব ছেড়ে এই সব মুখোশের নেশা ।
------ "এই কারনেই তোমাকে বলিনি এতোদিন "। একটু রেগে গিয়েই বলে কথাগুলো । দুহাতে মাথার চুলগুলো চেপে ধরে মাথাটা সোফায় হেলিয়ে দেয় । কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে ঋত্বিক বলে ---- "তুমি ছাড়া আর কেউই এখনো পর্যন্ত কিছু জানে না । তবে আমি এই মুখোশ সম্পর্কে আরো জানতে চাই । কিন্তু গুগলে বিশেষ সাহায্য পাওয়া গেল না । "
----- আরও জানতো চাও? মানেটা কি ? তুমি যাকে বলবে এই মুখোশের কথা , তাকে এই সত্যিটাও বলতে হবে । আরও লোক জানাজানি হবে । কাকে তুমি বিশ্বাস করবে ? প্লিজ আমার কথা শোনো এটা প্যাক করে রেখে দাও ।
-----কি মনে হয় তোমার ? প্যাক করে রেখে দিলেই এর অদ্ভুত ক্ষমতা লোপ পাবে ? আর কিছু শুনতে পাবো না ?
----- হতেও পারে ।
----- আমি সে চেষ্টা করেও দেখেছি। কিছুই হয়নি।
----- ও মাই গড .... কি ভয়ংকর জিনিস এটা বুঝতে পারছ।
সেদিনের মত আর কোন কথা হয়নি ওদের মধ্যে । তবে দুজনের মধ্যেই একটা চাপা দুঃচিন্তা কাজ করছিলো । সাথী ঘুমিয়ে পড়লেও ঋত্বিক অনেক রাত অবধি শুধু বিছানায় এপাশ ওপাশ করেছে ।
*****************************
দৃশ্য_৭ম
এর মাঝে কেটে গেছে আরও সপ্তাহ খানেক । সাথী মাঝে মধ্যেই মুখোশটার সামনে এসে বহুবার দাঁড়িয়ে দেখে আর ভাবে এই মুখোশটার সত্যিই এতো অদ্ভুত ক্ষমতা । কিন্তু মুখোশের তরফ থেকে কোনো উত্তর আসেনা ওর জন্য ।
বিগত দুদিন ধরে সাথীর কলেজের এক বন্ধু সাত্যকিকে অরুনাচলের বেশ কিছু চেনা অচেনা জায়গায় ঘুরতে দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় । সাত্যকি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসের প্রফেসরের তা জানে সাথী । তবে এখন দেখলো মাস্টারির পাশাপাশি রিসার্চ ফেলোও । অনেক দিন দেখা সাক্ষাৎ নেই , আর সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে থাকার দৌলতে মাঝে মাঝেই অল্পসল্প কথা হোত । ওর প্রোফাইলে শুধু মনাস্ট্রি আর বৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে অনেক আর্টিকেল লেখা । মনে মনে ভাবে সাত্যকিকে একবার বললে কেমন হয় ? যতই হোক ওর ভালো বন্ধু ছিলো একসময়। ও কি পারবে ওদের কোনো সাহায্য করতে ? তবে এক্ষুনি সব কিছু ওকে বলার আগে একবার জিজ্ঞাসা করা ভালো ওর রিসার্চের বিষয় নিয়ে । তারপর না হয় ভাবা যাবে । এই ভেবেই মেসেঞ্জারে একটা ছোট্ট মেসেজ পাঠিয়ে দেয় ।
না তৎক্ষণাৎ কোনো উত্তর পায়নি । বেশ ক'দিন পর ওর তরফ থেকে উত্তর আসে । তবে সেই মুহূর্তে সাত্যকি কলকাতার বাইরে থাকায় তেমনভাবে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি । আরও একসপ্তাহ পর ফোনে কথা হয় সাথীর সাথে । তবে সাথী সেই মুহূর্তে মুখোশের ব্যাপারে কিছু বলেনি । ঠিক করে সামনাসামনি বসেই কথা হবে । তখনও পর্যন্ত ঋত্বিক কিছুই জানেনা । একদিন অফিস শেষে দুজনেই দেখা করার সিদ্ধান্ত নেয় । সেই মতো দুজনেই হাজির হয় একটা কফিশপে।
**********************
দৃশ্য_৮ম
সাথী পৌঁছানোর আগেই সত্যকি পৌঁছে গিয়েছিলো। চার বছর পর আবার সামনাসামনি দেখা ওদের । মনে পড়ে যায় কলেজের সেই ফেলে আসা দিনগুলো। ওদের গ্রুপের সকলের সাথে এখন ঐ সোশ্যাল সাইটেই যা দেখাশোনা আর মাঝে মধ্যে কথাবার্তা । সকলেই নিজের নিজের জীবনে ব্যস্ত । আর এটা হওয়াই স্বাভাবিক । সময়ের সাথে সাথে প্রতিটা মানুষের জীবনের গুরুত্ব বদলে গেছে । একে অপরের সাথে প্রাথমিক কিছু কথা সেরে দুজনেই আসল কথায় আসে । কথায় কথায় সাথী জেনে নেয় , সাত্যকি প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ানোর পাশাপাশি প্রাচীন বৌদ্ধ মনাস্ট্রি নিয়ে রিসার্চ করছে । তার সেই সূত্র ধরেই অরুনাচল ঘুরতে যাওয়া । সাথী যেন এসব শুনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।
----- তারপর বল হঠাৎ তলবের কারন কি ?
----- "আসলে একটা হেল্প চাই রে ? বলতে পারিস একটু বিপদেই পড়েছি ।" বিশেষ ভনিতা না করে বলেই ফেলে সাথী ।
----- বিপদ ? কি বিপদ ? আর আমি কিভাবে তোকে বিপদ থেকে উদ্ধার করবো ?
----- আসলে তুই এই বৌদ্ধ মনাস্ট্রি নিয়ে রিসার্চ করছিস দেখেই আমার মনে হল তোকে যদি আমার সমস্যার কথা বলি হয়তো কিছু সাহায্য পেলেও পেতে পারি ।
----- আহা.... আগে তো বল কি হয়েছে । তবে তো আমি বলবো আদৌ সাহায্য করতে পারবো কিনা । আর হেঁয়ালি না করে বল তো দেখি । দাঁড়া একটা কফি বলি ?
---- হুম । মাথা নেড়ে সম্মতি জানায় ।
মিনিট খানেকের মধ্যে কফি এসে যায় । কফিতে একচুমুক দিয়ে সাথী শুরু করে প্রথম থেকে ।
সব শুনে সাত্যকি যথেষ্ট উৎসাহিত হয়ে বলে ওঠে ,
----- বলিস কিরে, এত দারুন ব্যাপার ভাবা যায় না । একটা মুখোশ যে কিনা মানুষের না বলা মনের কথা গুলো শুনিয়ে দিচ্ছে তার বর্তমান মালিককে । স্ট্রেঞ্জ ! তোরা কি চাইছিস ?
----- আমরা এই মুখোশের সম্পর্কে আরো কিছু জানতে চাই । একটা মুখোশ কিভাবে মানুষের মনের কথা বলতে পারে ? যদি এটা সত্যি ঐ মুখোশের জন্য হয়ে থাকে তাহলে এই মুখোশটা সরকারি সম্পত্তি । তুই যখন বৌদ্ধ মনাস্ট্রি নিয়ে কাজ করছিস শুনলাম , তখন সেই জানার ইচ্ছাটা আরো প্রবলভাবে বেড়ে গেলো । তাছাড়াও আমার খুব ভয় করছে যদি ঋত্বিকের কোনো ক্ষতি হয় ? আমরা তো জানিই না মুখোশটা ইতিপূর্বে কার কার মালিকানাধীন ছিলো আর কিকি ঘটনা ঘটিয়েছে ? যদিও ঋত্বিক এখনো জানেনা কিছু , আমি তোর কাছে এসেছি । প্লিজ দেখনা সাত্যকি কিছু হেল্প করতে পারিস কিনা । তবে হ্যাঁ একটাই রিকোয়েস্ট কথাটা প্লিজ পাঁচকান করিস না ।
----- ও সিউর । আর তোকে এত ফর্মালিটি করতে হবে না । তুই আমার সেই কলেজ জীবনের বন্ধু । তোকে সাহায্য করতে পারলে সবচেয়ে খুশি হবো আমি ।
সাথী মাথাটা নিচু করে নেয় । আবার শুরু করে সাত্যকি,
----- শোন তোকে কটা কথা বলি , আমার এইবার অরুনাচল ট্যুরটার আসল কারন ছিলো তাওয়াং আর বডমিলাতে যে কটা মনাস্ট্রি আছে , সেগুলো ভালো করে স্টাডি করা । যতই আমি গবেষক হই না কেনো..... মনাস্ট্রি থেকে যদি ঘুনাক্ষরেও টের পায় আমি কি উদ্দেশ্যে গেছি তাহলে ওরা আমায় অ্যালাউই করবে না । এমনিতেই তো দেখেছিস মনাস্ট্রির ভিতরে ক্যামেরা ছবি তোলা একেবারে বারণ । তাছাড়া বেশ কিছু মনাস্ট্রির ভিতরে এতো সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো..... কি বলব । আশা করি বুঝতে পারছিস ওদের অনেক গুপ্ত রহস্য আছে এখনও মনাস্ট্রি গুলোতে । যে জিনিস সকলে জানে তা ওরাও অকপটে বলে দেবে । কিন্তু এমন অনেক তথ্য আছে যা এই সব পুরোনো গুম্ফা , মনাস্ট্রির চার দেওয়ালের মধ্যে লোকানোই থাকে যুগ যুগ ধরে ।
----- কেনো ? কি বিষয় নিয়ে রিসার্চ করছিস তুই ?
----- আসলে আমার মূল বিষয়টা বৌদ্ধ মনাস্ট্রির তন্ত্র সাধনা । সেই বিষয়ে যদি নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায় তাহলে ইতিহাসের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে ।
----- বাহ । এতো দারুন ব্যাপার । তা কিছু পেলি ?
----- ঐ কাজ চলছে আরকি ।
----- একটু আমার ব্যাপারটা যদি দেখিস । যদি কোনো ক্লু .....
----- হ্যাঁ নিশ্চয়ই । এত ফর্মালিটির কোনো প্রয়োজন নেই সাথী । দেখ আমার একটু সময় লাগবে , এই ব্যাপারে আমার সুপারভাইজারের সাথে একটু আলোচনা করব ভাবছি । আশা করছি উনি কিছুটা হলেও পথ দেখাতে পারবে ।
----- তাহলে তো মুখোশের ব্যাপারটাও বলতে হয় ? কিন্তু আমরা চাইনা এক্ষুনি .....।
----- ওকে, ওকে, বুঝেছি । দেখছি আমি কিভাবে এগোনো যায় । আর শোন আজ আমার সাথে দেখা করার ব্যাপারটা অবশ্যই ঋত্বিককে জানা । তবে একটা রিকোয়েস্ট আছে ....
----- হ্যাঁ বল ।
----- আমি কি মুখোশটা দেখতে পারি?
----- হ্যাঁ নিশ্চয়ই । চলে আসিস একদিন আমাদের বাড়িতে । কোনো অসুবিধা নেই ।
----- আপাতত একটা ছবি দিতে পারিস ? আমি প্রয়োজনে তোর সাথে কথা বলে নেবো ।
***********************
দৃশ্য_৯ম
সাত্যকির সাথে মুখোশের কথা শেয়ার করার ঘটনায় সাময়িক ক্ষুব্ধ হলেও , ঋত্বিক পরে বুঝেছিল সত্যি ওদের পক্ষে বইয়ের পাতার বাইরে এই রহস্য উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব । ইতিহাসের এই সব অজানা তথ্য উদ্ধার করতে একমাত্র ইতিহাসের পণ্ডিতরাই পারে । কিন্তু কথাটা পাঁচ কান করে যদি বিপদ বাড়ে তাই নিয়ে একটু চিন্তায় পরে যায় ঋত্বিক ।
দিন পনেরো পরে সাত্যকির ফোন আসে সাথীর কাছে।
----- কিরে কিছু জানতে পারলি ?
----- আমার সুপারভাইজার অনুময় সেন কিছুটা আভাস দিয়েছেন । তবে ধরে নে এই মুখোশের সব রহস্য রয়েছে থুবটেক গ্যালিং এ । বডমিলার একটা প্রাচীন গুম্ফা এটা , এখানে প্রচুর প্রাচীন পুঁথি সুরক্ষিত ছিলো যদিও অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি , পরে পাহাড়ের মাথায় গড়া আপার মনাস্ট্রিতে সিফ্ট করা হয়েছে ।
----- তারপর ?
----- তারপর আর কি ? বাকিটা তোর বাড়ি গিয়ে আগামী রবিবার । তাছাড়াও ঐ মুখোশটাকেও যে চাক্ষুষ করতে হচ্ছে একবার ..... ।
চলবে ....।।
#কুহেলী_ব্যানার্জী ।।
© All copyright reserved to Kuheli Banerjee.
