বইয়ের বিবরণে ফিরে যান প্রতিবেদন পর্যালোচনা

অধ্যায় 4

দৃশ্য _১০ম


এই ঘটনার দুতিন দিন পর হঠাৎই রাতে ঘুমের মধ্যে একটা কিছুর শব্দে ঘুমটা ভেঙে যায় সাথীর । স্ট্রিট লাইটের আলো রাতে যেটুকু ঘরে আসে তাতে অন্ধকারে পাশের মানুষকে অনায়াসে দেখা যায় । কিছু বুঝে ওঠার আগেই আরও একবার ঝনঝন করে শব্দ হল । হাতে মোবাইলটা জ্বেলে এগিয়ে যেতেই বুঝলো আওয়াজটা আসছে ড্রয়িং রুম থেকে । একটু সাহস করে এগোতেই চোখে পড়লো বারান্দার দরজাটা খোলা । মনে মনে ভাবতে থাকে এতো ভুলো মন তো ঋত্বিকের নয় যে রাতে দরজা না দিয়েই শুয়ে পড়বে । খুটখাট শব্দে বুঝতে আর বাকি রইল না ঘরের অন্য কারোর উপস্থিতি । সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলের আলোটা জ্বেলে  চেঁচামেচি জুড়তেই লোকদুটো আর সময় অপচয় না করে ওখান থেকে সরে পরে । সাথীর চিৎকারে ঋত্বিকও উঠে দ্রুত পায়ে চলে আসে ওখানে । আলো জ্বালিয়ে ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করলো দুজনেই । জানলার কাঁচ ভাঙ্গা আর সেখান দিয়েই দরজার ছিটকিনি খুলেছে । আর মেঝেতে বেশ কটা মুখোশ ইতস্তত পরে আছে । কিন্তু কোনোটাই খোয়া যায়নি । ঋত্বিকের কাছে এটা পরিষ্কার হয়ে যায় লোকদুটো মুখোশটাই হাতাতে এসেছিল কিন্তু কোন মুখোশটা আসলে নিতে হবে সেটাই বুঝতে না পেরে এই হাল করেছে । ওদিকে সাথীর মনের মধ্যে চলছে তবে কি সাত্যকিকে মুখোশের কথাটা বলে ভুল করেছে  ?


**********************


দৃশ্য_১১



একমনে মুখোশটা হাতে নিয়ে খুব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিলো সাত্যকি । সোফায় বসে ঋত্বিকই কথা শুরু করলো ।



----- আচ্ছা সাত্যকি বৌদ্ধধর্মে তন্ত্র সাধনা ঠিক কোন ভাগে পড়ে , মানে বৌদ্ধ ধর্ম বলতে আমার জ্ঞান ঐ হীনযান আর মহাযান অবধিই ।


ঋত্বিকের কথায় সাত্যকির চোখদুটো নড়ে ওঠে । এক মনে মুখোশটায় কিছু লক্ষ্য করছিলো । মুখোশটা সেন্টার টেবিলে রেখে ঋত্বিকের পাশের সিটটায় গিয়ে বসে বলতে শুরু করে ,

----- ইটস ওকে । সব বিষয়ে সবাইয়ের জ্ঞান থাকবে এমন কোনো কথা নেই । আমাকেই ধরুন না কোডিং এর প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে সেটা নিশ্চয়ই আমার পক্ষে জানা সম্ভব নয় । হ্যাঁ আপনি ঠিকই বলেছেন , ঐ মহাযানের মধ্যেই এই তন্ত্র সাধনার ব্যাপারটা আসে ।


ততক্ষনে সাথীও ঠান্ডা পানীয় ও অল্প জলযোগ সহকারে চলে এসেছে  ড্রয়িং রুমে । সেন্টার টেবিলে ট্রে রেখে ঋত্বিকের পাশে বসে সাত্যকিকে ইশারায় নেবার জন্য বলে সাথী শুরু করে ---

----- "আসলে মুখোশটা এতোদিন এখানেই থাকতো কিন্তু সেই রাতে যেভাবে দুটো লোক ঘরে ঢুকেছিল মুখোশটা হাতাতে , তারপর আমরাও আর রিস্ক নিইনি । ওটা সরিয়ে রেখেছিলাম । কে হতে পারে বলতো? সে নিশ্চয়ই জানে এই মুখোশের কথা , তাই তো চুরির ঘটনা ঘটলো।  " প্রশ্নটা ছুঁড়ে দেয় সাত্যকির উদ্দেশ্যে ।


----- "সেটা তো আমাকেও ভাবাচ্ছে । আমি তো অনুময় সেনকেই যা একটু আধটু জিজ্ঞেস করেছিলাম । তবে কি স্যারই.... ? "কথাগুলো বলে একবার ঋত্বিকের দিকে তাকিয়ে নেয় সাত্যকি ।

----- তুই কি বেশ বলছিলিস বল । এই বিষয়ে পরে কথা বলছি ।




সাত্যকি শুরু করে .....


----- আসলে বৌদ্ধধর্ম, তন্ত্র সাধনা, মনপা উপজাতি এগুলো সব একে অপরের সাথে জড়িয়ে আর শেষমেষ যেটা বলতেই হচ্ছে এই মুখোশও কিন্তু এই সবকিছুর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত । তাই মুখোশের রহস্য উন্মোচন করতে হলে তোমাদের প্রথম থেকেই জানতে হবে । তন্ত্র সাধনার সূত্রপাত অনেক আগেই হয়েছিল বজ্রযানের মধ্যে , তাও প্রায় তিনশ বছর আগে । তখন গোপনভাবে গুরুশিষ্যের মধ্যে চর্চা হতো । অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত বজ্রযানের খুব শ্রীবৃদ্ধি ঘটে । তবে ত্রয়োদশ শতকের শুরুতে মুসলমান-আক্রমণের সময়ে অনেক মঠ ও বিদ্যাপীঠ ধ্বংস হয়ে যায় । তার পর থেকেই বজ্রযান ভারতে প্রায় বিলুপ্ত হতে থাকে । তারপর কি হলো ..... বজ্রযানের অনুসরনকারীরা হয় হিন্দু সমাজে মিলে গেলো, নয় মুসলমান হয়ে গেলো । কিছুজন তো আবার চৈতন্যদেবের অনুপ্রেরণায় বৈষ্ণবও হয়ে গেলো । এই আপনি যেমন বললেন (ঋত্বিককে উদ্দেশ্য করে বলে) ঠিক তেমনি, ৫০ বছর আগেও মানুষ জানতো, বৌদ্ধদের ভিতর তন্ত্র ছিল না এবং তারা দেবদেবীর উপাসনা করত না। কিন্তু এখন তন্ত্রসাহিত্যের বেশ কিছু গ্রন্থ প্রকাশ্যে এসেছে, তাই ক্রমশঃ ধারনাও বদলাচ্ছে । তবে এখনও অনেক বৌদ্ধ তান্ত্রিক গ্রন্থ অপ্রকাশিত রয়েছে এমনকি লোকানো রয়েছে। এইগুলি নিয়েই আমার কাজ ।


কথাগুলো একনাগাড়ে বলে একটা কোল্ডড্রিংকসের গ্লাস তুলে এক চুমুক দিয়ে আবার টেবিলে রেখে শুরু করে ।

----- এবার আসি এই মুখোশের কথায় । এর সঙ্গেও এই তন্ত্র সাধনা জড়িয়ে আছে ।

----- "কি রকম ? " সাথী উৎসুক হয়ে জিজ্ঞাসা করে ।

----- বৌদ্ধ-তন্ত্রের প্রচুর প্রসার ঘটেছিলো মহাচীনে । মহাচীন মানে বিহার-বঙ্গ-আসামের কিছু অঞ্চল এবং নেপাল-তিব্বত-ভুটান প্রভৃতি অঞ্চলে। ভুটানের অধিবাসী শারচপসদের সাথে মনপা'দের আবার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে । যেমন ধর , মনপাদের ভাষা তিব্বতি বর্ণমালা দিয়েই রচিত। ভারতের অরুণাচলেই একমাত্র ৬০০০০মনপাদের বসবাস । আবার তিব্বত শাসিত চীনের 'কোনা কান্ট্রি' আর 'ম্যাডং কান্ট্রিতে' প্রায় ২৫০০০ বসবাস । তাহলে বুঝতেই পারছিস সাথী এই মনপা'দের সঙ্গে তিব্বত, ভুটান, চীনের একটা ধর্মীয় যোগাযোগ ছিল এবং এখনও আছে । আর এইসব জায়গায় তান্ত্রিক বৌদ্ধ ধর্মের ব্যাপক প্রসার।


----- "তাহলে তুই বলতে চাইছিস এই মুখোশের সাথে তিব্বত ভুটানের ও একটা লিঙ্ক রয়েছে ?" সাথী জিজ্ঞাসা করে ।


মাথা নেড়ে সম্মতি দিয়ে আবার শুরু করে সাত্যকি

----- "এবার আসি মনপা'দের কথায়, এদের আদি বাসস্থান নিয়েও বহুমত আছে । উত্তর-পূর্ব ভারতের যাযাবর উপজাতি এরা । মনে করা হয়, মনপারা পশ্চিম হিমালয় ও সিকিম থেকে তাওয়াং এ গেছিলো । তারপর তাওয়াং থেকে মাইগ্রেট করে বমডিলাতে চলে আসে । বমডিলার একদিকে তিব্বত আর একদিকে ভুটান। প্রাচীনকালে এই বমডিলা নিয়ন্ত্রিত হত তিব্বতী রাজাদের দ্বারা । আর মনপা'দের দৈনন্দিন জীবনে তাওয়াং মনাস্ট্রির বিশাল প্রভাব ছিল । এই অঞ্চলের মনপা আদিবাসীদের মধ্যে প্রাচীন সংস্কৃতি এখনো বর্তমান। আর এরা তান্ত্রিক বৌদ্ধ ।  এটা নিশ্চয় তোরাও খেয়াল করেছিস ।



এতোক্ষণ ঋত্বিক আর সাথী খুব গম্ভীর মুখে সব কথা শুনছিলো ।

----- "তোমরা যখন বেড়াতে গিয়েছিলে নিশ্চয়ই তখন অরুনাচলের ম্যাপ নিয়েও হোম ওয়ার্ক করেছিলে ?"

----- "হ্যাঁ , নিশ্চয়ই । আপনার বর্ণনা অনুযায়ী একদম চোখের সামনে ভাসছে তাওয়াং, কোনা, বমডিলা । কিন্তু মুখোশের ব্যাপারটা   ...... । "ঋত্বিক বলল।

----- "আসছি আসছি .....। এবার একটু মনপাদের অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কথায় আসি । এই মনপা  সমাজ পরিচালিত হতো কাউন্সিল দ্বারা । এই কাউন্সিলে আবার ৬ জন করে মন্ত্রি থাকতো এদেরকে 'ট্রুকড্রি' বলে, আর এই কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্যদের বলে 'কেনপো' । এই 'কেনপো' পদে তাওয়াং এর 'অ্যাবোটরা' স্থান পেতো ।  বর্তমানে মনপা গোষ্ঠী যেখানে বাস করে প্রাচীন কালের সূত্র অনুযায়ী সেখানে মনয়ুল বংশ রাজত্ব করেছিল ৫০০ খৃষ্টপূর্বাব্দ থেকে ৬০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। মনয়ুলরা ধীরে ধীরে তিব্বতী রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আপন করতে থাকে, যখন সংগাং গ্যাতসো ৬ষ্ঠ দলাই লামা রূপে নির্বাচিত হন ।

ঘটনার সূত্রপাত হয় এখান থেকেই । এই সময়েই মনয়ুল রাজবংশের অগচরে তিব্বত চেয়েছিলো ঐ অঞ্চলের মনপা'দের ওপর পুরো আধিপত্য কায়েম করতে । ধীরে ধীরে তারই প্রচেষ্টা চালাচ্ছিলো গুপ্ত ভাবে । ওদিকে ঐ সময়ের মনয়ুল বংশের রাজা কিছু একটা আন্দাজ করতে পারেন । তার কাউন্সিলের প্রধান কেনপো ছিলেন রাজার বিশ্বস্ত । এই প্রধান কেনপো ছিলেন তাওয়াং মনাস্ট্রির অ্যাবোট অর্থাৎ প্রধান লামা । তিনি তন্ত্র সাধনার ওপর চর্চা তো করতেনই , তার পাশাপাশি পুঁথিও রচনা করেছিলেন বেশ কটি । শুধু উনি নয় , ওনার আগে যারা অ্যাবোট পদে ছিলেন সকলেরই সাধনার বিষয় দ্বারা এই পুঁথি গুলো সমৃদ্ধ হয়েছিলো । অনুমান করা হয়, তন্ত্র সাধনার অনেক গুপ্ত রহস্য বর্ণিত আছে এতে । কারন এইসব পুঁথির সব এখনও উদ্ধার হয়নি । তো মনয়ুল রাজার অনুরোধে এবং নিজেদের রাজত্ব সুরক্ষিত করার উদ্দেশ্যে অ্যাবোট নিজ তন্ত্র ক্ষমতার বলে এই দৈব শক্তি সম্পন্ন মুখোশ সৃষ্টি করেন । যদিও এই সৃষ্টির কথা সেভাবে উল্লেখ না করলেও তিনি একটি পুঁথিতে একটা বাক্সের ছবির উল্লেখ করেছেন । বর্তমানে এইরকমই দেখতে একটা বাক্স থুবটেক গ্যালিং এ রাখা আছে যেটা আমি নিজে চোখে দেখে এসেছি । এই বাক্সটার সাথে মুখোশের যে সম্পর্ক আছে সেটা বুঝতে পারি সাথীর পাঠানো ছবি থেকে ।"


কথাগুলো বলেই একদম চুপ করে , গম্ভীর হয়ে যায় সাত্যকি ।

----- "কি হল চুপ করে গেলি যে ?" সাথী জিজ্ঞাসা করে ।

----- "এখানেই একটা ভুল করে ফেলি আমি ? "

----- "কি ভুল ?"

----- "অনুময় সেনকে এই কথাটা বলে ফেলি উত্তেজনার বসে ।"

----- "তাহলে তো অনুময় সেনকে সন্দেহের তালিকায় রাখা যেতেই পারে ? তাই না ? "প্রশ্নটা সাত্যকিকে করেই ফেলে ঋত্বিক ।


---- " সে না হয় ধরেই নিলাম চুরিটা অনুময় সেনই করিয়েছিল । কিন্তু কি মিল পেলি সেটা তো বল ?" সাথী বলেই ফেলল ।


সাথীর কথায় মুখোশটা হাতে নিয়ে  দেখিয়ে বলে ,

----- "এই যে এখানে দেখ, মুখোশের কপালের প্রতিটা ভাঁজে ভাঁজে সুনিপুণ ভাবে লেখা অক্ষরগুলো আর এইখানে দেখ থুবটেক গ্যালিং এ রাখা বাক্সে একই তিব্বতী হরফে কটা অক্ষর । এই দেখ .... । "বলে মোবাইলে তোলা ছবিটা এগিয়ে দেয় সাথীর দিকে ।


----- " তাহলে এবার জলের মত পরিস্কার যে রাজার এই মুখোশ রাখার জন্য এই বাক্স বানানো হয়েছিল । আর এই মুখোশের অলৌকিক ক্ষমতার বলে রাজা তার কাউন্সিলের বেইমান সদস্যকে চিহ্নিত করে ফেলেন এবং পরিনামে রাজার মৃত্যু ও মুখোশটা চুরি যায় ।" ঋত্বিক বেশ উত্তেজিত হয়ে ওঠে ।

---- "হ্যাঁ একদম ঠিক বলেছেন । আর এরপর মনয়ুল রাজ্যও ৩২টা জেলায় ভাগ হয়ে যায় । সেগুলো পূর্ব ভুটান, তাওয়াং, কামেং এবং দক্ষিণ তিব্বতের অঞ্চলগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে । আমিও এতদূর জেনেই এসেছিলাম বাড়ি থেকে । কিন্তু এখানে এসে ইতিহাস আর একটু তার রহস্য উন্মোচন করলো ।"

----- "এখানে এসে ? কিরকম ?" ঋত্বিক জিজ্ঞাসা করে ।

----- এই মুখোশের মাথার পিছন দিকে একটা ছোট্ট শিলমোহর আছে যাতে ৬ষ্ঠ দলাই লামার নাম খোদিত । যেটা আমি এখন দেখলাম । তার মানে উনি এই মুখোশের ব্যাপারে জানতেন । আর এই সংগাং গ্যাতসো মশাই আবার গান , কবিতা লিখতেন । তবে সব কিছু একদম নং সহযোগে ক্রমানুসারে তার পুঁথিতে লিপিবদ্ধ থাকতো । কিন্তু তার এই কবিতা সমন্বিত পুঁথির কিছু পাতা ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে । আর উনিও এই ঘটনার পর বেজিং যাওয়ার পথে আকস্মিক ভাবে খুন হন । 

সাথী প্রায় লাফিয়ে উঠে বলে ....

----- " তার মানে এই সংগাং মানে ৬ষ্ঠ দলাই লামা ওর কবিতার এই মুখোশ বা খুন সম্পর্কে কিছু লিখে রেখেছিলেন । আর সেটা খুনিরা জানতো , তাই এনাকেও খুন হতে হয় । "

----- "এক্সাটলি "। সাত্যকি বলে উঠলো ।

----- "উফফ ! কি নিষ্ঠুর এই ক্ষমতার লোভ । কত মানুষের রক্ত আছে এই মুখোশের পিছনে । "ঋত্বিকের গলার আফশোসের সুর ।

----- একদম ঠিক।  এতো গেলো ১৭০৬ সালের ঘটনা । এখন ২০১৯ । ভাবা যায় , এই ৩১৩ বছরে আরও কত মানুষের হাত ঘুরে এসেছে এই মুখোশ । আরও কত মানুষের রক্ত বয়েছে । যাক মুখোশ রহস্যের সমাধান হল । এবার আমার ছুটি । " সাত্যকি কথাগুলো বলে একটু রিল্যাক্স হয়ে সোফায় ঠেস দিয়ে বসে ।

----- " ছুটি মানে ? এবার এটাকে যথাস্থানে রাখার ব্যবস্থাও তোকেই করতে হবে । না হলে ঐ চোর ছিনতাইদের উপদ্রব বন্ধ হবে না যে ।"

----- "সাথী একদম ঠিক বলেছে । এ বস্তু ঘরে রাখার জিনিস নয় ।" ঋত্বিকও সায় দেয় সাথীর কথায় ।



*****************


  দৃশ্য_১২


মাঝে কেটে গেছে আরও দুতিন মাস । থুবটেক গ্যালিং এর মনাস্ট্রিতে রাখা সেই বিশেষ বাক্সে মুখোশটিকে ফেরত দিয়ে ফিরে আসছে ওরা তিনজন । ঋত্বিক , সাথী আর সাত্যকি । হ্যাঁ সাত্যকির মাধ্যমে থুবটেকের মনাস্ট্রির সাথে যোগাযোগ করে মুখোশটা ফেরত দেবার ব্যবস্থা করে ঋত্বিক । ওদের অনুমানই ঠিক ছিল । থুবটেকে রাখা ফাঁকা যে বাক্সর কথা উল্লেখ করেছিল পূর্বে , সত্যিই সেটা এই মুখোশের বাক্স । থুবটেকের বর্তমান অ্যাবোটের থেকে ওরা জানতে পারে সংগাং গ্যাতসোর মৃত্যুর সাথে সাথে এই মুখোশও হারিয়ে যায় । কোনো খোঁজ ছিলো না । এই ঘটনার প্রায় ১৫০ বছর পর হঠাৎ করেই ফেরত পাওয়া যায় মুখোশ । তারপর থেকে এই মনাস্ট্রিতেই রাখা ছিল । কিন্তু আবারও হঠাৎ করেই বছর পাঁচেক আগে বাক্স থেকে মুখোশ চুরি হয়ে গিয়েছিল । তারপর কোনো হদিশ পাওয়া যায়নি । তবে এবার ওরাও মনস্থির করেছে , মুখোশটা আরকিওলজি বিভাগের হাতে তুলে দেবে । যতই হোক এটা দেশের সম্পত্তি । মুখোশটা যথাস্থানে ফেরত দিয়ে ঋত্বিকও মনে মনে এক অদ্ভুত শান্তি অনুভব করছে । কিন্তু মুখোশের দৌলতে অনেক মুখোশধারী মানুষের মনের কথা যা ঋত্বিকের কাছে অজানা নয় , সেই মানুষগুলোর সাথেই আবার আগের মতই মেকি সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে ভেবেই মনটা একটু তিক্ত হয়ে ওঠে। মনে মনে ভাবে প্রতিটা মানুষেরই বোধহয় পরিচিত মুখের আড়ালে একটা লুকোনো মুখোশ আছে । যেটা সেই ব্যক্তি আর আয়না ছাড়া কেউ জানেনা । কিন্তু কি আশ্চর্য আমরা মানুষের সেই মেকি রূপটাই দেখতে পছন্দ করি । মুখোশের আড়ালের আসল রূপটা সহ্য করার ক্ষমতা বোধহয় আমাদের কারোরই নেই ।



সমাপ্ত ।।

©কুহেলী ব্যানার্জী ।।


পর্যালোচনা


আপনার রেটিং

blank-star-rating

বামদিকের মেনু