শতাব্দী চক্রবর্তী - (04 December 2022)"মায়ায় আবৃত" গোটা ব্রহ্মাণ্ড মায়া দিয়ে মোড়া। আমরা যা মনে করি আছে কিন্তু তা হয়তো নেই। আবার মায়া মানে অমোঘ টান, মোহ যা কোন কিছুর জন্য পিছুটান যা এড়ানো বড় কঠিন। আপনি প্রথমের দিকে প্রেমের ছন্দে লিখেছেন, প্রেমিক তার প্রতি টান কিন্তু পরের দিকে কবিতার খেই হারিয়ে একটি বক্তব্য প্রতিস্থাপন করা হয়েছে যেন। ব্রহ্ম সত্য মায়া মিথ্যা তার থেকে আমরা মুক্তি পেলেই আমরা শান্তি পাবো। "মায়া কোন বস্তু নয়, ব্রহ্ম সত্য" এই মায়াবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। ঠিক কাব্যিক ছন্দ হারিয়ে মতবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।
00
ডাঃ পরমেশ ঘোষ - (30 November 2022)• অ্যাপে প্রকাশিত কবিতাটির লাইনসংখ্যা ২১; অথচ ‘শপিজেন বাংলা’ গ্রুপে লেখা হয়েছে #লাইনসংখ্যা_২০
• এই কবিতার মাধ্যমে, আমরা উপলব্ধি করতে পারিনা যে, জগতের পেছনে পরম সত্য হলো ব্রহ্ম।
• মনে হয়, বাংলাদেশ জাতীয় জ্ঞনকোষ বা বাংলাপিডিয়াতে শংকরের মায়াবাদের নিম্নোক্ত সংজ্ঞার উপর ভিত্তি ক’রে কবিতাটি লেখার চেষ্টা হ’য়েছে; কিন্তু সে চেষ্টা সফল হয়নি।
• “সাধারণত ‘মায়া’ বলতে এমন একটি অনির্বচনীয় শক্তিকে বুঝায় যা রহস্যজনকভাবে জগৎরূপে প্রতিভাত। মায়া সব রকম অবভাসিক সত্ত্বার সমন্বয়। যখনই আমরা পরম সত্ত্বার একত্বকে অনুভব করতে ব্যর্থ হই তখনই মায়ার উদ্ভব ঘটে। কোনো বস্ত্ত বা বিষয় প্রকৃতই যা নয় সেভাবে প্রতিভাত হবার নামই মায়া। যেমন অন্ধকারে একটি রজ্জুকে ভ্রমবশত আমরা সাপ মনে করি। ভ্রম দূর হলে সাপের অস্তিত্ব রূপ নেয় বাস্তব রজ্জুর। এ জাতীয় ভ্রান্ত জ্ঞানকেই সাধারণত মায়া বলে আখ্যায়িত করা হয়। শংকরাচার্যের মতে, একমাত্র ব্রহ্মই সত্য এবং এ জগৎ মিথ্যা। অজ্ঞতাবশত রজ্জুতে সর্প ভ্রম হয় এবং সর্প দর্শনে আমরা আতঙ্কিত হই। ঠিক তেমনিভাবে আমরা অজ্ঞতার কারণে ব্রহ্মের স্থলে জগৎ দর্শন করি এবং জগতের প্রতি আকৃষ্ট হই। যথার্থ জ্ঞান লাভ করলে আমরা যেমন বুঝতে পারি, সর্প সত্য নয় এবং এর পেছনে সত্য হলো রজ্জু, ঠিক তেমনিভাবে যথার্থ জ্ঞান লাভ করতে পারলে আমরা উপলব্ধি করতে পারব যে, জগতের পেছনে পরম সত্য হলো ব্রহ্ম। রজ্জুর পরিবর্তে সর্প অথবা ব্রহ্মের পরিবর্তে জগৎ প্রত্যক্ষণই হলো মায়া।“
• “শংকরের মতে মায়া ঈশ্বরের অনির্বচনীয় শক্তি। তার মতে সত্য তিন প্রকার: প্রাতিভাষিক, ব্যবহারিক ও পারমার্থিক। তার মতে একমাত্র ব্রহ্মই পারমার্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে সত্য। ব্রহ্ম ও ঈশ্বর সমমর্যাদাসম্পন্ন নন। তিনি মনে করেন, মায়ার দ্বারা আবৃত ব্রহ্মই ঈশ্বর। মায়া ঈশ্বরের শক্তি। কিন্তু মায়া ব্রহ্মের শক্তি নয়। শংকর ঈশ্বরকে জাদুকরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, জাদুকর যেমন তার জাদুশক্তি বলে এক টাকাকে দশ টাকা বানায় ঈশ্বরও তেমনিভাবে তার মায়াশক্তি দ্বারা জগৎপ্রপঞ্চ সৃষ্টি করেন। অজ্ঞতার কারণে সাধারণ মানুষ জাদুকরের সৃষ্টি দেখে বিস্মিত হয়, কিন্তু জ্ঞানী এর দ্বারা প্রতারিত হয় না। ঠিক তেমনিভাবে একজন সাধারণ মানুষ জগৎপ্রপঞ্চকে সত্য বলে মনে করে। কেউ কেউ মনে করেন যে, মায়াবাদ শংকরের চিন্তার ফসল। কিন্তু এটা স্পষ্ট যে, শংকরের জন্মের বহু আগে বেদে, উপনিষদে, গীতায় কোথাও প্রচ্ছন্নরূপে আবার কোথাও স্পষ্টত মায়াবাদ বিদ্যমান। এসব গ্রন্থ থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে এদের প্রভাবেই শংকর মায়াবাদের একটি সমন্বিত রূপ ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসকে উপহার দিয়েছেন।“