4স্বাধীনতার স্বপ্ন কোথায়?
তাপস কুমার বর
____________________
এই যে নগরীর বুকে আকাশচুম্বী ইমারতের অহংকার,
তার ভিত্তিমূলে শুয়ে আছে ক্ষুধার্ত শ্রমিকের হাড়-মাংসের অন্ধকার।
তোমরা গগনচুম্বী স্বপ্ন বেচো, আমরা বেচি ঘাম,
তোমাদের লাভের খাতায় জমা পড়ে আমাদের রক্তের দাম।
স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গেল স্লোগানে,
কিন্তু আজও ভুখা শিশুর কান্না থামে না রাতের প্রহরে।
একমুঠো চাল ফুরায়, কঙ্কালসার পেটের জ্বালায়,
আর কাগজের প্রতিশ্রুতি ওড়ে হাজার ভুখা কান্নায়।
দানবেরা এখন দুর্গন্ধ মুছে, টাই বাঁধে, শুধু নিজেকে সভ্য প্রমাণ করতে,
তারা আইনের ফাঁক গলে করের টাকা লুটে বিদেশে ভাসে।
আর আমরা? আমরা পেটের দায়ে পথে নামলে লাঠি খাই,
"আইন-শৃঙ্খলা" বলে রাস্তার বুকে পিষ্ট হই।
অর্থলোলুপ শকুনের দল ছিঁড়ে খায় গরিবের বুক,
জঙ্গল কাটে, নদী বেচে, খনির মাটি করে ধুক।
বলে "উন্নয়ন" — অথচ আদিবাসীর ঘর ভাঙে যন্ত্র দানব ,
"প্রগতি"র নামে মৃত্যু লেখে গরীবের কপালের ভাঁজ।
কোথায় সেই স্বাধীনতা? যে স্বপ্নে রক্ত দিয়েছিল পূর্বপুরুষ?
যেখানে মানুষের জন্য কাঁদবে না অভুক্ত, বিমর্ষ?
আজ স্বাধীনতা মানে শুধু কি মুনাফার চুক্তি?
আর গরীবের স্বাধীনতা মানে— ধুঁকে ধুঁকে মরার যুক্তি!
শোনো, হে দানব, হে লোভী যন্ত্র দানব,
আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে, আর পিছু হটার স্থল নাই।
আমরা পেটে পাথর বেঁধে জেগে উঠব একদিন,
কলম হবে অস্ত্র, কণ্ঠ হবে মিছিলের সঙ্গী।
সেদিন হিসাব চাইব এক এক করে,
তোমাদের লকারে জমা আমাদের ন্যায্য পাওনা।
স্বাধীনতার স্বপ্ন আমরা মাটির তলায় পুঁতে দিইনি,
ওটা আমাদের বুকে, ওটা আমাদের রক্তে লেখা দাবি।
তাই বলি—
যতই চোখ রাঙাও, যতই গুলি চালাও,
আগুন একবার জ্বললে নেভানো যায় না।
গরীবের যন্ত্রণা থেকেই জন্ম নেয় বিপ্লব,
আর সেই বিপ্লবেই ফিরবে স্বাধীনতার আসল স্বপ্ন।
°°°°°°